a-major-change-of-ration-withdrawal-has-been-brought
Advertisement

বর্তমান সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী সাধারণ জনগণের ক্ষেত্রে আধার কার্ড, PAN কার্ডের পাশাপাশি রেশন কার্ডও একটি উল্লেখযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ নথি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ইতিমধ্যেই এই রেশন কার্ড সংক্রান্ত আরো এক গুরুত্বপূর্ণ আপডেট প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, যা না জানলে সমস্যায় পড়তে হবে পশ্চিমবঙ্গের রেশন গ্রাহকদের।

Advertisement

কেন্দ্রীয় সরকার তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের তরফে রেশন সংক্রান্ত দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন প্রকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যব্যাপী রেশন দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙ্গুলের ছাপ নেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের রেশন প্রদান করা হয়ে থাকে (Ration Withdrawal)। এছাড়াও গ্রাহকদের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে আসা OTP যাচাইকরণের মাধ্যমে রেশন প্রদান করে থাকেন রেশন ডিলাররা। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের বয়সের তারতম্যে এইভাবে আঙুলের ছাপ নিতে গিয়ে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, বিশেষত বয়সপ্রাপ্ত গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হয়ে থাকে।

Advertisement

এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের আধার নম্বরের সঙ্গে মোবাইল নম্বর সংযুক্ত না থাকার কারণে OTP-এর মাধ্যমে রেশন প্রদানের ক্ষেত্রে নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় রেশন ডিলার সহ গ্রাহকদের। যার ফলে এই বিষয়টি নিয়ে গ্রাহক তথা রেশন ডিলারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। আর তাতেই এবারে রাজ্যব্যাপী রেশন বন্টনের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হলো খাদ্য দপ্তরের তরফে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের অধীনস্থ ফুড অ্যান্ড সাপ্লাই ডিপার্টমেন্টের তরফে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে জানা গিয়েছে যে, এবার থেকে আর শুধু আধার যাচাইকরণের মাধ্যমে গ্রাহকদের রেশন দেওয়া হবে না (Ration Withdrawal)।

মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ কবে? জানিয়ে দিল পর্ষদ সভাপতি।

আগত এপ্রিল মাস থেকে চোখের মনি স্ক্যান এবং আধার নম্বর যাচাইকরণ এই দুটি পদ্ধতির সঠিকভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে রেশন দোকান থেকে গ্রাহকদের রেশন দেওয়া হবে। খাদ্য দপ্তরের অধিকারিকদের মতে, আগামী দিনে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হলে রাজ্যজুড়ে রেশন বন্টন ব্যবস্থাকে ঘিড়ে যে অনিয়ম চলছে তা বন্ধ করা সম্ভব হবে। এমনকী এই নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে রেশন ব্যবস্থা স্বচ্ছতা আনা সম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফেও।

তবে এখানেই শেষ নয়, এর পাশাপাশি আরও জানানো হয়েছে যে, মার্চ মাস থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটি জেলার বিধিবদ্ধ রেশন এলাকার ৫ টি করে দোকানে পাইলট প্রকল্প কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে খাদ্য দপ্তরের তরফে। এর পাশাপাশি খাদ্য দপ্তরের তরফ থেকে প্রকাশিত তথ্যে আরও জানা গিয়েছে যে, রাজ্য সরকারের তরফে চোখের মনি স্ক্যানের মাধ্যমে আধার যাচাইকরণের যে প্রক্রিয়া কার্যকর করা হয়েছে তাতে রাজ্য সরকারের কোনোরূপ অতিরিক্ত অর্থ খরচ হবে না।

আবাস যোজনার স্ট্যাটাসে আনা হলো বিরাট পরিবর্তন। আপনি অনুদানের টাকা পাবেন তো?

চোখের মনি স্ক্যান করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মেশিনগুলির খরচ বহন করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি সংস্থা। সুতরাং, একদিকে যেমন রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা সম্ভব হচ্ছে, অন্যদিকে ঠিক তেমনভাবেই রাজ্যের কোষাগারে অতিরিক্ত কোন চাপ পড়ছে না। তবে এক্ষেত্রে কোনোরূপ প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে রেশন ডিলারদের সমস্যা হতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে রাজ্য সরকার কিংবা খাদ্য দপ্তরের তরফে কোনোরূপ মন্তব্য করা হয়নি।

এর পাশাপাশি আরো জানা গিয়েছে যে, রাজ্যব্যাপী রেশন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে যে প্রক্রিয়া কার্যকর করা হচ্ছে তাতে সম্মতি রয়েছে কেন্দ্রেরও। ই-পস এবং স্ক্যানার যন্ত্রের মাধ্যমে রেশন বন্টনের পাশাপাশি প্রতিটি রেশন দোকানে নতুন ওজন যন্ত্র আনতে উদ্যোগী কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বেশ কিছু মডেল দোকানে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যের ২১ হাজার রেশন দোকানে এই নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনতে উদ্যোগী কেন্দ্রীয় সরকার। সুতরাং, আগামী মার্চ মাস থেকে যেমনভাবে রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে রেশন দোকানগুলিতে পাইলট প্রকল্প কার্যকর করা হচ্ছে ঠিক তেমনভাবেই এপ্রিল মাসে থেকে স্ক্যানার এবং আধার যাচাইকরণের মাধ্যমে রেশন প্রদান করা হবে রাজ্যবাসীকে।