apply-sukanya-samriddhi-yojana-2023
Advertisement

ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মেয়েদের সামাজিক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বেশ কিছু প্রকল্প এবং স্কলারশিপ কার্যকরী করা হয়েছে যার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি প্রকল্প হলো সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা (Sukanya Samriddhi Yojana)। ভারতে বসবাসকারী বিভিন্ন অর্থনৈতিক স্তরের নাগরিকরা যাতে তাদের কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারে তার জন্য এই যোজনাটি কার্যকরী করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ মানুষই সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা (Sukanya Samriddhi Yojana) সম্পর্কে সঠিকভাবে জানেন না, যার কারণে চাইলেও এই যোজনার অধীনে বিনিয়োগ করতে পারেন না। আর তাই আজকের এই পোস্টে আপনারা সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার অধীনে কিভাবে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন, কিভাবে এই যোজনার অধীনে আবেদন জানাতে পারবেন, কতো টাকা ফেরত পাওয়া যাবে তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করতে চলেছি।

Advertisement

কারা এই যোজনার অধীনে আবেদন জানাতে পারবেন?
১. যেকোনো ভারতীয় নাগরিক তার দুটি কন্যা সন্তানের জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার অধীনে অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারবেন। এমনকী প্রথম কন্যা সন্তানের জন্মের পর দ্বিতীয়বার যদি যমজ সন্তানের জন্ম হয় তবে যেকোনো নাগরিক এই তিনটি সন্তানের জন্যই সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার অধীনে অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি পাবেন।

Advertisement

২. কন্যাসন্তানের বয়স ১০ বছরের থেকে কম হলেই ওই কন্যাসন্তানের অভিভাবক সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার অধীনে উক্ত কন্যাসন্তানের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।

জানুয়ারি মাসে আবেদন করা যাচ্ছে এই ৪ টি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপে। এখনই আবেদন করুন

এই যোজনার অধীনে নাগরিকরা কি কি সুবিধা পাবেন?
১. সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার অধীনে যেসকল কন্যা সন্তানের নাম নথিভুক্ত রয়েছে তাদের মূল আমানতের উপরে ৭.৬ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হয়ে থাকে।

২. এই যোজনার অধীনে অভিভাবকেরা প্রত্যেক বছরে নূন্যতম ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবেন।

৩. এমনকী এই যোজনার অধীনে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৮০সি ধারায় করে ছাড় পাওয়া যায়।

৪. এর পাশাপাশি সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার (Sukanya Samriddhi Yojana) অ্যাকাউন্ট ভারতের যেকোনো ক্ষেত্রের পোষ্ট অফিস বা ব্যাংকে ট্রান্সফার করা সম্ভব।

৫. এই যোজনার অধীনে সময়মতো কিস্তির টাকা না দেওয়া হলে আপনাকে নূন্যতম ৫০ টাকার জরিমানা দিতে হয়।

৬. সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার ক্ষেত্রে সব থেকে আকর্ষণীয় বিষয়টি হলো এই যোজনার অধীনে বিনিয়োগ করে যেকোনো পিতা অথবা মাতা তার কন্যা সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফেরত পেতে পারবেন। তবে এই যোজনার অধীনে কতো টাকা ফেরত পাওয়া যাবে তা নির্ভর করছে কতো দিনের জন্য কতো টাকার কিস্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে তার উপর। এক্ষেত্রে সর্বাধিক ১৫ বছরের জন্য এই যোজনার অধীনে বিনিয়োগ করা যাবে এবং কন্যা সন্তানের ২১ বছর বয়স হলে এই যোজনার সম্পূর্ণ টাকা উক্ত কন্যা সন্তান নিজের পড়াশোনার জন্য অথবা ব্যবসার ক্ষেত্রে কিংবা বিয়ের জন্য কাজে লাগাতে পারবেন।

এই যোজনার অধীনে কিভাবে নিজের কন্যা সন্তানের নাম নথিভুক্ত করা সম্ভব?
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার অধীনে নিজের কন্যা সন্তানের নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে আপনার নিকটবর্তী পোস্ট অফিস অথবা ব্যাংকে গিয়ে এই যোজনার আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ফর্মটি সংগ্রহ করতে হবে। পরবর্তীতে ওই ফর্মে উল্লেখিত সমস্ত তথ্যগুলি সঠিকভাবে লিখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি ওই ফর্মের সাথে যুক্ত করে জমা দিতে হবে। এরপর এই যোজনার অধীনে প্রথম কিস্তির টাকা জমা দিতে হবে এবং টাকা জমা হয়ে গেলেই আপনার সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা অ্যাকাউন্টটি একটিভ হয়ে যাবে। প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে যেকোনো অংকের টাকা আপনি জমা করতে পারবেন।

আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র:-
১. কন্যা সন্তানের জন্মের শংসাপত্র।
২. কন্যা সন্তানের পিতা, মাতা অথবা অভিভাবকের ফটো আইডেন্টিটি।
৩. আবেদনকারীর পিতা, মাতা অথবা অভিভাবকের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণপত্র।
৪. প্যান কার্ড।
৫. ভোটার কার্ড।
৬. যমজ সন্তানের ক্ষেত্রে মেডিকেল সার্টিফিকেট।
এই সমস্ত নথিপত্রের পাশাপাশি ব্যাংক অথবা পোস্ট অফিসের কর্তৃপক্ষ অন্যকোনো নথি জমা করার নির্দেশ দিলে আপনাকে সেই সমস্ত নথিগুলি জমা করতে হবে।